গাইবান্ধাগাইবান্ধা সদর

সুন্দরগঞ্জে কৃষকের ঘরে ঘরে নবান্নের উৎসব

নবান্নের আনন্দে আমন ধান কাটার ধুম লেগেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে। উপজেলায় আগাম জাতের ধান কাটা মাড়াই চলছে পুরোদমে। মাঠের সোনালী ধান এখন ঘরে তুলতে ব্যস্ত এ অঞ্চলের কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর আমন চাষে বড় কোন প্রতিকুল আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হয়নি উপজেলার কৃষকদের। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নির্বিঘেœ ধান কাটা মাড়াই ও শুকানোর কাজ করতে পারছেন কৃষান-কৃষানিরা। মাঠজুড়ে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে মনের আনন্দে কাজ করছেন তারা। কথা বলার মতো ফুরসত নেই তাদের।

ধান কেটে অনেক কৃষকই আঁটি বেঁধে কাঁধে করে, আবার অনেকেই বিভিন্ন যানবহনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। বাসা-বাড়ির উঠানে চলছে আগাম জাতের ধান মাড়াইয়ের কাজ। তবে দিনমজুর সংকটে হতাশায় উচ্চ ও মধ্য বিত্ত শ্রেনির কৃষকরা। অনেক কৃষক স্ত্রী পুত্র পরিজন নিয়ে ধান কাটামাড়াই করছে। এসব ধান নিয়ে কৃষকের যেমন ব্যস্ততা তেমনি আনন্দও প্রচুর। অনেকের বাড়িতে চলছে শীতের সকালে ভাঁপা পুলি, তেল পিঠা, নতুন চালের পায়েস ও নাড়ু মুড়ির মুখরোচক খাবার।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমন চাষের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষামাত্রা ছিল ২৮ হাজার ১০০ হেক্টর। সে স্থলে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ২৮ হাজার ৬০০ হেক্টরে দাড়িয়েছে। বিঘা প্রতি ফলন দেখা দিয়েছে ৪.৫০ মেট্রিক টন।

শান্তিরাম ইউনিয়নের কৃষক তারা মিয়া জানান, আমন চাষাবাদের শুরুতেই বৈরি আবহাওয়ার কারনে ভাল ফলন না হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু পরে আবহাওয়া ভাল থাকায় ভাল ফলন হয়েছে। তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করেছে। তার দাবি প্রতিবিঘা জমিতে ১৫ হতে ১৬ মন ধান পাওয়া যাবে। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৬ হতে ৭ হাজার টাকা। তিনি বলেন দিনমজুর সংকটে হতাশায় রয়েছি। বর্তমান বাজারে প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০ হতে ১ হাজার টাকায়।

একই এলাকার কৃষক ইয়াজুদ্দিন জানান, এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অগ্রহায়ণ মাসে পুরো ধান কাটা শুরু হলেও আগাম জাতের বিভিন্ন ধান কার্তিকের মাঝামাঝি থেকে কাটা শুরু করেছে। আগাম জাতের ধানের বাম্পার ফলনে কৃষক বেজায় খুশি।

উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আমন চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি ফলনও ভাল হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে আমনের ফলন হয়েছে আশানুরুপ। দিন যতই যাচ্ছে, ততই উন্নত জাতের ধানের চাষাবাদ হচ্ছে। সে কারনে কৃষকরা ভাল ফলন পাচ্ছে। তিনি বলেন আমন ধান কাটামাড়াইয়ে দিনমজুরের তেমন প্রভাব পড়ে না। কারন এসময় বৃষ্টি বাদলের সম্ভাবনা থাকে না।

Back to top button