ঢাকাবুধবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. কনভার্টার
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. খেলাধুলা
  7. গাইবান্ধা
  8. গাইবান্ধা সদর
  9. গোবিন্দগঞ্জ
  10. চাকুরী
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. পলাশবাড়ী
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার

সাঘাটায় যমুনা নদীতে নৌকা বাইচে প্রাণের মেলা

কায়সার রহমান রোমেল
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শুধু ঝপঝপ বৈঠার শব্দ। মাঝি-মাল্লাদের ‘মারো টান হেইয়ো, আরো জোরে হেইয়ো’ সহ ঢোলের তালে তালে বৈঠা মারা। হেইয়ো রে হেইয়ো…আওয়াজ করে পানিতে ঝপাত ঝপাত শব্দ তুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অসাধারণ দৃশ্য আর হাজার হাজার দর্শকের আনন্দ উচ্ছাসের মধ্যদিয়ে গাইবান্ধার সাঘাটায় হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ।

রোদেলা শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। যমুনা পাড়ে অপরূপ শোভা বিলিয়ে ফুটেছে শরতের কাশফুল। সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের চিনিরপটল গ্রামে যমুনা নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরের ভিড়। সবার মাঝে উৎসবের আমেজ। আর নদীর বুকে কারুকাজ ও নানা রঙে সাজানো ছিপছিপে ২০টি নৌকা। সেসব নৌকার কত যে সুন্দর নাম। প্রতিটি নৌকায় বৈঠা হাতে ৪০ থেকে ৫০ জন মাঝি। দাঁড়ের মাঝি নৌকার পেছনে, মাঝখানে নির্দেশক। ঢোল-কাঁসা-করতাল-মন্দিরা বাজিয়ে বাদক আর গায়েনরা মাঝিদের উৎসাহ দিতে নৌকার মাঝখানে। কোনো নৌকায় মাঝিদের গায়ে একই রকম গেঞ্জি, সবার মাথায় আবার একই রঙের রুমাল বা গামছা বাঁধা। গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচে উৎসবমুখর মানুষের উৎসাহ উদ্দীপনায় যমুনা নদীতে এ যেন এক প্রাণের মেলা।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নৌকা বাইচ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবির, সাঘাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেন, সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, আবু তাহের, জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার সকাল থেকেই এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ-যুবা দলবেঁধে সমবেত হয়েছিলেন যমুনা নদীর পাড়ে। এতে উৎসব-আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছিলো পুরো এলাকা। প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন এলাকাসহ বাইরের জেলা থেকেও অংশ নেয় বেশ কয়েকটি নৌকা। নানা রঙ্গের নৌকা ছাড়াও প্রতিযোগীদের সাজ-পোশাক, বাদ্য-বাজনা নৌকা বাইচের প্রধান আকর্ষণ ছিল। ঘুড়িদহ ইউনিয়ন ছাড়াও আশেপাশের বেশক’টি ইউনিয়ন ও গাইবান্ধার অন্য ছয়টি উপজেলা থেকেও অনেক দর্শক এ বাইচ দেখতে আসেন। নৌকা বাইচ চলাকালে যমুনা নদীর পাড়ে হাজার হাজার উৎসাহী দর্শক এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ উপভোগ করেন।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। গাইবান্ধার সাঘাটায় দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবছর স্থানীয়দের উদ্যোগে একই স্থানে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আয়োজকরা বলেন, ‘এটি এ বাইচের নবম আয়োজন। এলাকার অধিকাংশ লোকই বছর ধরে এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। অনেকে গ্রামের বাইরে তাদের কর্মস্থলে বসবাস করলেও, এই দিন তারা একত্রিত হন, কাটান একেবারেই গ্রাম্য পরিবেশে আর গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে।’

প্রতিবছর যমুনা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে এই প্রাণের মেলায় আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকেন এখানকার মানুষ। অপেক্ষায় থাকেন কখন হাঁক ছাড়বে মাঝি-মাল্লারা ‘জোরসে বাও বাইচের নাও…’।

সুত্র: আমারজেলা ডট নিউজ 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।