জাতীয়

লাল সবুজ জ্যাকেট পেল জুম বাংলাদেশ এর পাঁচশত সুবিধাবঞ্চিত শিশু

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শনিবার সকালে জুমবাংলা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন (জুম বাংলাদেশ) কর্তৃক রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পাঁচশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলেক্ষ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই জুম বাংলাদেশ পথশিশুমুক্ত ও শিক্ষিত গড়ে তোলার লক্ষে সমাজের ঝড়েপড়া ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ কাজ করে চলছে। অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাংস্কৃতিক ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি এই সকল ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি বিভিন্ন সৌখিন জিনিসপত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়।

জুম বাংলাদেশ এর সভাপতি রুহুল আমিন সেলিম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার), ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জনাব জীশান মীর্জা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জুম বাংলাদেশ এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. মনিরুজ্জামান, জুম বাংলাদেশ এর সহ—সভাপতি জেরিন সুলতানা ও এলাহী বেগম শারমিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে জুম বাংলাদেশ এর প্রতিষ্টাতা ও প্রধান নিবার্হী এসটি শাহীন।

উল্লেখ্য, ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানের লক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ২০১৬ সালের ১১ মার্চ মাত্র ১৩ জন সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল শিশু নিয়ে সংগঠনটির পথচলা শুরু হয়। বর্তমানে ঢাকা ছয়টি ও ঢাকার বাহিরে গাইবান্ধা ও যশোরে একটি করে স্কুলসহ মোট ৮টি শাখার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।

জুম বাংলাদেশ স্কুলে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রায় দুই হাজারেরও অধিক ভলান্টিয়ার রয়েছে। যারা নিজেদের লেখাপড়ার পাশাপশি স্বেচ্ছায় শিশুদের পাঠদান, দেশের যেকোনো দুর্যোগে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে চলছে করোনাকালীন ও বন্যার সময় প্রায় পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষ কে সহযোগিতা করেছে সংগঠনটি। এছাড়াও ‘বিনা পয়সার খাবার’ নামক প্রজেক্ট এর মাধ্যমে প্রতিদিন দুই শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে একবেলার খাবার বিতরণ করে চলছে। বর্তমানে জুম বাংলাদেশ ১০টি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে। প্রজেক্টগুলো হলো স্কুলিং প্রোগ্রাম, ইযুথ লিডারশীপ, পরিবর্তন প্রজেক্ট, বিনা পয়সার খাবার, ভলান্টিয়ার কার্যক্রম, অসহায় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, রক্তদান কর্মসূচি ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম।

Back to top button