গাইবান্ধাসুন্দরগঞ্জ

চিরকুট লিখে তরুণীর আত্মহত্যা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় সেলিনা (ছদ্মনাম) (২১) নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যার প্ররোচনায় একটি মামলা করেন নিহত ব্যক্তির ভাই।

এর আগে শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দেড় বছর আগে একই গ্রামের আবদুল গফুর মিয়ার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক হয় সেলিনার। গফুরের ঘরে স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও তারা গোপনে বিয়ে করেন। পরে বিষয়টি এলাকাবাসী বিবাহবিচ্ছেদের মাধ্যমে সমাধান করেন। কিছুদিন পর আবারও তারা বিয়ে করেন। একইভাবে তাদের আবারও বিবাহবিচ্ছেদ করায় দুই পরিবার।

শুক্রবার সেলিনাকে দেখতে আসে বরপক্ষ। কিন্তু গফুর তাকে আবারও বিয়ের প্রলোভন দেওয়ায় তিনি বিয়ে ভেঙে দেন। পরে বরপক্ষ চলে গেলে তিনি একটি সুইসাইড নোট লিখে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

চিরকুটে যা লেখা ছিল (সংক্ষিপ্ত)

‘…আমার মা বাবা এবং ভাইয়াকে আমি অনেক কষ্ট দিছি একজনকে ভালবেসে। আমি আমার জীবনের থেকেও ওকে অনেক বেশি ভালোবাসছি। আজ সে আমাকে বুকে ছুরি মেলে দিল, আমি গফুরকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলাম। সে আমাকে যা বলেছে আমি তাই করেছিলাম…সে আমাকে দুবার বিয়ে করে কিন্তু একবারও ঘরসংসার করে নাই।

আমার বাবা মা এবং ভাইয়া সহকারে আমার জন্য ছেলে দেখতে যায় এবং আমাকেও দেখতে আসে। কিন্তু গফুর আমাকে বিয়ে করতে দেয় নাই…শেষে এসে জানতে পারি সে আমার জীবনটা নষ্ট করে দিল। তাই আমি ভাবলাম পৃথীবিতে বেঁচে থাকার কোনো দরকার নাই। যাকে ভালোবাসি, তাকে পাইলাম না; সে জীবন বেঁচে কী লাভ হবে।…

শুধুমাত্র গফুরকে ভালোবেসে আমার মৃত্যু হলো। আমি নিজের ইচ্ছায় মরতে চাই নাই…’

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, জেলা হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে।

সুত্র: ঢাকা পোষ্ট

Back to top button