ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১২ আগস্ট ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. কনভার্টার
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. খেলাধুলা
  7. গাইবান্ধা
  8. গাইবান্ধা সদর
  9. গোবিন্দগঞ্জ
  10. চাকুরী
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. পলাশবাড়ী
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অসহায় জীবন যাপন করছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা

Admin
আগস্ট ১২, ২০২১ ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লির ডিজেন টুডুর পরিবার চলে দিনমজুরি করে। টুডু ২০১৬ সালে পুলিশি হামলায় এক চোখ হারানো পর আর মাঠে কাজ করতে পারেন না। এখন স্ত্রী অলিভিয়া হেমব্রমের মজুরিতে চলে সংসার। কিন্তু করোনার কারণে ঠিকমতো কাজ পাচ্ছেন না, তিন সন্তানকে নিয়ে অনাহারে থাকতে হচ্ছে তাদের। ওই সাঁওতাল পল্লির শীর্ষ নেতা ফিলিমন বাস্কে বলেন, ‘২০২০ সালে করোনার সময় দরিদ্র সাঁওতালদের সহযোগিতায় অনেকে এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু এবার কারও সহযোগিতা এখন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এই মানুষেরা অসহায় জীবন যাপন করছেন।’

নেত্রকোনা দুর্গাপুরের গারো সম্প্রদায়ের নারী কুহেলিকা আজিম কাজ করতেন বিউটি পার্লারে। পরে তিনি নিজেই রাজধানীর পূর্ব রাজা বাজারে কুহেলিকা নামে বিউটি পার্লার চালু করেন। সেখানে কাজ করতেন সাতজন গারো নারী। এখন করোনার কারণে সেই বিউটি পার্লার বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কুহেলিকা আজিম জানান, বিউটি পার্লারের আয়ে আগে ভালোই চলছিল সবকিছু। করোনার প্রথম ধাক্কায় সঞ্চয়ের টাকা খরচ করে চলছিল পরিবার। দ্বিতীয় ধাক্কায় এখন সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাভাবে বন্ধ হয়েছে দুই সন্তানের পড়াশোনা। স্বামী প্রবীণ প্রট্রিক সিরান ঢাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করতেন, করোনায় তিনিও চাকরি হারিয়েছেন। এতে একবেলা খেয়ে দুই বেলা অনাহারে কাটাতে হচ্ছে তাদের।

কুহেলিকা আজিম কিংবা ডিজেন টুডুর পরিবার নয়, করোনা মহামারিতে সংকটে রয়েছে দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ। ২০২০ সালে ইনডিজিনাস পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস (আইপিডিএস) এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাকালে দেশের সমতল এলাকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ৯২ ভাগের আয় কমে গেছে। তাদের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা সংকট অতি দ্রুত ও মারাত্মক আকারে সমতলের আদিবাসীদের জীবন ও জীবিকার ওপর তীব্র প্রভাব ফেলে। ফলে অতিদরিদ্র সীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা ৬২ শতাংশের নিচে চলে যায়। সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকাংশই নিরাপত্তাহীন বা অন্যের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল চাকরির সঙ্গে যুক্ত। যেমন দিনমজুরি, বিউটি পার্লার, গার্মেন্টস, গৃহপরিচারিকা, সিকিউরিটি গার্ড, ড্রাইভার, বিক্রয়কর্মী হিসেবেই বেশি কাজ করেন। করোনায় এদের ৭২ শতাংশ চাকরি হারিয়েছেন।

কাপেং ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা মহামারিতে সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের কাজের সুযোগ অনেক কমে গেছে। পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। পাহাড় ও সমতলে এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ সরকারি বেসরকারি খাদ্য সহায়তা পায়নি। সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়ক মারিও সুইটেন মুর্মু বলেন, ‘করোনার বিধিনিষেধের কারণে আদিবাসী মানুষের জীবন জীবিকার ওপর অনেক প্রভাব পড়েছে। প্রচুর আদিবাসী শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে। ঠিকমতো খাবার পাচ্ছেন না। সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য যে সহযোগিতার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, অধিকাংশ আদিবাসী পরিবার এই সহযোগিতা পায়নি।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘করোনায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। দেশে আদিবাসী প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সংকটে রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক আদিবাসী গ্রামে সরকারি ত্রাণ তেমন পৌঁছায়নি। ২০২০ সালে বিধিনিষেধের সময় আদিবাসীদের ৯২ শতাংশ মানুষ সংকটে পড়েছিল। এই বছর (২০২১) সংকট আরও ভয়াবহ। অনেকে ঋণ নিয়ে পরিবার চালাচ্ছে, কমিয়ে দিয়েছে খাওয়া দাওয়ার পরিমাণ। করোনার ধাক্কা বারবার সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পিছিয়ে পড়া আদিবাসীদের প্রতি আন্তরিক মনোযোগ আরও বাড়াতে হবে। আদিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট করে প্রণোদনা ঘোষণা করতে হবে।’

প্রতিবছর ৯ আগস্ট পালন করা হয় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। জাতিসংঘ ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালন করে আসছে। আদিবাসী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়, আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সামাজিক অঙ্গীকারের আহ্বান।’

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে আদিবাসী শব্দ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা উপজাতি হিসেবে আখ্যায়িত করে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।